বিজ্ঞ আদালতের রায় উপেক্ষা করে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের ‘রেস্টহাউজ’ দখলের চেষ্টা: সচেতন মহলের ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোস্তাক আহমেদ
আদালতের রায় ও ডিক্রি উপেক্ষা করে নরসিংদীর ভেলানগর মৌজাস্থিত ঐতিহাসিক ‘চেয়ারম্যান রেস্টহাউজ’টি অবৈধভাবে দখলে রাখতে জেলা প্রশাসনের একটি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ অবস্থান এবং আদালতের আদেশ অমান্যের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবার ওই রেস্টহাউজে অবৈধভাবে আবাসন গড়ে তুলে বসবাস করছে। নরসিংদীর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই দখলদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— যে সম্পত্তির কোনো ভূমি অধিগ্রহণই করা হয়নি, সেই সম্পত্তি কেন এবং কোন অসৎ উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন জোরপূর্বক দখলে রাখতে চায়?
রেস্টহাউজের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট:
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে নরসিংদীতে আসা তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের থাকা-খাওয়ার চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এই রেস্টহাউজটি নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম আদম আলী মাস্টার। চেয়ারম্যানদের কষ্টের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর নেওয়া এই মহতী উদ্যোগ সে সময় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল এবং তিনি সর্বস্তরের মানুষের বাহবা পেয়েছিলেন।
পরবর্তীতে এই সমাজসেবকের ছোট সন্তান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ মতিউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে একটি ‘স্মৃতি পাঠাগার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন বীর শহীদের স্মৃতি সংবলিত পাঠাগার নির্মাণে বাধা এবং অন্যদিকে আদালতের রায় অমান্য করে রেস্টহাউজটি দখলে রাখাকে একটি ‘নেক্কারজনক ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
মামলার তফসিল:
বিরোধপূর্ণ জমির তফসিল (ক)- নরসিংদী সদর, ২৭৮ নং ভেলানগর মৌজাস্থিত। খতিয়ান: এসএ- ২৩, আরএস- ৮৪; দাগ নং: এসএ- ২৪৫, আরএস- ৪৪৩।
অভিজ্ঞ মহলের অভিমত:
আইনজীবী ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের মতে, বিজ্ঞ আদালতের রায় অনুযায়ী অনতিবিলম্বে ডিগ্রি জারি করে প্রকৃত মালিকের কাছে রেস্টহাউজটি হস্তান্তর করা উচিত। সরকারি একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের এমন বিতর্কিত ভূমিকা প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসনকে এই নেক্কারজনক ঘটনা ও বিতর্ক থেকে মুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও আইনানুগ প্রশাসন গড়ে তুলতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নরসিংদীর সচেতন সমাজ।






