রাজস্থলীতে মারমা স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে মামলা
সুমন খান,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় এক মারমা স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের অভিযোগে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম খ্যানুউ মারমা চট্টগ্রামের কুন্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভিকটিমের মা নুম্রসিং মারমা কর্তৃক আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা ও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে খ্যানুউ মারমা রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আরচ তালুকদার ও তার সহযোগী আলাউদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও প্রলোভন দেখাতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের সতর্ক করা হলেও তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে পরিবারটিকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল সকালে খ্যানুউ মারমাকে সাথে নিয়ে তার বাবা রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে কেনাকাটা করতে যান। একপর্যায়ে কেনাকাটার জন্য বাবা দোকানের ভেতরে ঢুকলে বাইরে অপেক্ষারত মেয়েটিকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৫৫) করা হয়। এর আগেও গত ৫ মার্চ প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে অভিযুক্ত আরচ তালুকদার ওই ছাত্রীর পথরোধ করে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানায়, মেয়েটিকে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠালে মেয়েটির অবস্থান জানানো হবে বলেও প্রলোভন দেখায় তারা। এছাড়া সম্প্রতি ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও পরিবার দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান আসামি আরচ তালুকদারের বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি ইতিপূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি কর্তৃক স্কুলপড়ুয়া এক আদিবাসী কিশোরীকে অপহরণের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ভিকটিমের পরিবার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত মেয়েটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মারমা তরুণীর পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামি গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারে আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া ও অভিযান চলমান রয়েছে।”






